Breakingজেলানন্দীগ্রামপূর্ব মেদিনীপুরব্রেকিং নিউজরাজনীতিরাজ্যশীর্ষ খবর

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে

নিউজ বাংলা লাইভ ডেস্ক নন্দীগ্রাম:- নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড়সড় রাজনৈতিক চমক দিল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। রবিবার সন্ধ্যায় নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের জন্য দলের প্রার্থী হিসেবে সঞ্চিতা প্রধান দে-র নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর খাসতালুক হিসেবে পরিচিত নন্দীগ্রামে এবার বয়াল-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা সঞ্চিতার উপরেই আস্থা রাখল কালীঘাট তৃণমূল। পেশায় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা সঞ্চিতা নন্দীগ্রাম-২ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষও ছিলেন। ২০১৪ সালের প্রাথমিক টেট নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ২০২২ সালে যে ২৬৯ জনের চাকরি বাতিল ও বেতন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেই তালিকায় ছিলেন সঞ্চিতাও। ফলে চাকরি হারানোর পর এবার সরাসরি নির্বাচনী ময়দানে নেমে রাজনৈতিক লড়াইয়ে নিজের জায়গা তৈরি করার সুযোগ পেলেন তিনি। প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর সঞ্চিতা বলেন, দল তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা তিনি যথাসাধ্য পালন করার চেষ্টা করবেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বয়াল-২ এলাকা থেকে ফের প্রার্থী বেছে নিয়ে নন্দীগ্রামে নিজেদের সাংগঠনিক জমি শক্ত করার বার্তাই দিল কালীঘাট তৃণমূল। এর আগে বিধানসভা নির্বাচনেও বয়াল-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান পবিত্র করকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। তবে সেই নির্বাচনে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। এবার সেই বয়াল-২ এলাকারই সঞ্চিতাকে সামনে রেখে নতুন করে লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছে দল। দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল পরিবারের সঙ্গে যুক্ত সঞ্চিতা ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তৃণমূলের টিকিটে নন্দীগ্রাম-২ পঞ্চায়েত সমিতিতে জয়ী হয়ে শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষের দায়িত্ব সামলান। পরবর্তী সময়ে দলীয় টিকিট না পেয়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়াই করেও পরাজিত হন তিনি। এরপর কুণাল ঘোষের হাত ধরে ফের তৃণমূলের সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে আসেন সঞ্চিতা। এবার সেই সঞ্চিতার উপরেই আস্থা রাখল কালীঘাট তৃণমূল। ফলে অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক যোগাযোগ এবং বয়াল এলাকার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে হাতিয়ার করে তিনি নন্দীগ্রামে কতটা লড়াই দিতে পারেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে কালীঘাট তৃণমূলের এই প্রার্থী কতটা ‘মুখরক্ষা’ করতে পারেন, উপনির্বাচনের ফলেই তার উত্তর মিলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *