পটাশপুরপূর্ব মেদিনীপুরব্রেকিং নিউজ

বিশ্বকাপ জয়ী রিচার মত পটাশপুরের প্রত্যন্ত গ্রামে লুকিয়ে আছে আরও এক ছোট্ট রিচা

বিশ্বকাপ জয়ী রিচার মত পটাশপুরের প্রত্যন্ত গ্রামে লুকিয়ে আছে আরও এক ছোট্ট রিচা

নিজস্ব: প্রতিনিধি পটাশপুর পূর্ব মেদিনীপুর

 মাত্র ১৩ বছর বয়সেই সে জেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তার ক্রিকেট খেলার ব্যাট ও বল নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে টুর্নামেন্টে খেলতে। তার অনুপ্রেরণা ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের তারকা রিচা ঘোষ এবং স্মৃতি মন্ধনা। স্বপ্ন একদিন ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার হওয়া। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর দুই ব্লকের বামনবাড় বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী রঞ্চিতা প্রধান ক্রিকেটের প্রতি ছোটবেলা থেকেই গভীর মনোযোগী। গ্রামের মানুষ থেকে শুরু করে স্কুলের বন্ধুরা এখনই তাকে ‘ছোট্ট রিচা’ বলে ডাকতে শুরু করেছে। রিচা ঘোষের বিশ্বকাপ জয়ীর প্রতিভা রঞ্চিতার জেদকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে।

তবে রঞ্চিতার জীবনে ক্রিকেট খেলা হঠাৎ করেই শুরু হয়নি। তার বাবা বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত হলেও খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ছিল ছোটবেলা থেকেই। টেনিস খেলতে ভালবাসতেন তিনি। বাবাকে দেখে প্রথমে রঞ্চিতা টেনিস খেলা শুরু করে। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তার মন টেনে নেয় ক্রিকেট। ব্যাট হাতে দাঁড়ান, বল হাতে দৌড়ান—এ যেন তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা স্বপ্ন ও শক্তিকে জাগিয়ে তোলে। বাড়ির সামনে পুকুরপাড়ে, ধানক্ষেতের পাশে ছোট্ট জায়গায় শুরু হয় তার প্রথম নেট প্র্যাকটিস। বাবা মাটি সমান করে মেয়ের জন্য তৈরি করেন একটি ছোট পিচ। সেই পিচেই শুরু হয় রঞ্চিতার প্রকৃত ক্রিকেটযাত্রা।

প্রতিদিন সকাল হলে শুরু হয় তার নিয়মিত অনুশীলন। ঘুম থেকে উঠেই ব্যাট হাতে নেমে পড়ে প্র্যাকটিসে। কয়েক ঘণ্টার ব্যাটিং-বোলিংয়ের পর যায় স্কুলে। স্কুল থেকে ফিরে আবার সেই পুকুরপাড়ের নেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা খাটুনি। রোদের তাপ, মাঠের কাদা, ধানক্ষেতের বাতাস—কিছুই তাকে থামাতে পারে না। সন্ধ্যা নামলে শুরু হয় পড়াশোনা। খেলাধুলার প্রতি মনোযোগের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও সে মেধাবী। গ্রামের মেঠোপথ, দারিদ্র্য—এসব সত্ত্বেও তার চোখে স্বপ্ন রিচা ঘোষের মতো ক্রিকেটার হওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *