নিউজ বাংলা লাইভ ডেস্ক :- শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে কার্যত কড়া অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অতীতের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বজনপোষণ কিংবা প্রভাব খাটানোর অভিযোগের পুনরাবৃত্তি যে তাঁর সরকার কোনওভাবেই মেনে নেবে না, এদিন তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগ হবে সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে এবং প্রার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে। লিখিত পরীক্ষায় যে নম্বর প্রার্থী অর্জন করবেন, সেই ফলাফল এবং নির্ধারিত যোগ্যতার মাপকাঠিকেই নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। কোনওরকম সুপারিশ, প্রভাব বা অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগের সুযোগ থাকবে না বলেও কার্যত কড়া বার্তা দেন তিনি। আদালতের নির্দেশকে সামনে রেখে গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যোগ্য প্রার্থীদের অধিকার সুরক্ষিত রাখাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “কেবল মোবাইল ফোনে মেসেজ পাঠিয়ে আর চাকরি হবে না।” অর্থাৎ, কোনও গোপন প্রক্রিয়া বা অস্বচ্ছ পদ্ধতিতে নিয়োগের দিন শেষ—লিখিত পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর এবং যোগ্যতার নিরিখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে, যাতে যোগ্য প্রার্থীরা তাঁদের প্রাপ্য সুযোগ পান এবং নিয়োগ নিয়ে ভবিষ্যতে কোনও প্রশ্ন বা বিতর্ক তৈরি না হয়। শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা এবং নিয়মকেই একমাত্র মাপকাঠি করার বার্তা দিয়ে তিনি কার্যত জানিয়ে দেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের অনিয়ম বা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ সামনে এলে তা বরদাস্ত করা হবে না। শিক্ষক দিবসের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য তাই শুধু নিয়োগপ্রার্থীদের উদ্দেশেই নয়, নিয়োগ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের কাছেই একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবে উঠে এসেছে। সরকারের লক্ষ্য, আদালতের নির্দেশ মেনে দ্রুত, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ সম্পন্ন করে যোগ্য প্রার্থীদের হাতে চাকরি তুলে দেওয়া। ফলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তায় তার অবসানের পাশাপাশি একটি স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার দিকেই সরকার এগোতে চাইছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।