Breakingজেলাপূর্ব মেদিনীপুরমহিষাদল

রথের আগে দখলমুক্ত রথ সড়ক, মহিষাদলে অবৈধ দোকান সরাতে সোমবার পর্যন্ত চূড়ান্ত ডেডলাইন

নিউজ বাংলা লাইভ ডেস্ক, পূর্ব মেদিনীপুর, মহিষাদল:- রথকে সামনে রেখে রথ সড়কের দু’ধারে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান ও স্থাপনা সরাতে কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। শনিবার মহিষাদল থানা, ব্লক প্রশাসন এবং রথ পরিচালন কমিটির উদ্যোগে মাইকিং করে জানিয়ে দেওয়া হয়, আগামী ৬ জুলাই (সোমবার)-এর মধ্যে শহীদ বেদি থেকে মাসির বাড়ি (গুণ্ডিচাবাটি) পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রথ সড়কের দু’ধারে থাকা সমস্ত অবৈধ দোকান ও নির্মাণ স্বেচ্ছায় সরিয়ে ফেলতে হবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ দোকান বা স্থাপনা না সরালে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি রথযাত্রা শেষ হওয়ার পর ওই সড়কের ধারে নতুন করে কোনও দোকান বা বাড়ি নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা করা হয়েছে।

মাইকিংয়ের পাশাপাশি এদিন রথ, রথের চাকা, দড়ি, রথ সড়ক এবং মাসির বাড়ি এলাকা পরিদর্শন করেন জেলার পুলিশ সুপার । তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরাও।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা বলেন,

“প্রতিবছরের মতো এবারও যাতে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে রথযাত্রা সম্পন্ন হয়, সেই লক্ষ্যেই রথ, রথের চাকা, দড়ি, রথ সড়ক এবং মাসির বাড়ি পরিদর্শন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও রথ পরিচালন কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী প্রস্তুতি নেওয়া হবে। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রথ পরিচালন কমিটির অন্যতম সদস্য বলেন,

“মহিষাদলের প্রাচীন রথের সংস্কার এখন অত্যন্ত জরুরি। কয়েক বছর আগে হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রথ সংস্কারের জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন। আগামী বছর ফের রথের সংস্কারের জন্য তাঁর কাছে আবেদন জানানো হবে।”

প্রায় ২৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মহিষাদলের রথযাত্রা দেশের অন্যতম প্রাচীন রথ উৎসব হিসেবে পরিচিত। পুরী ও মাহেশের পর এই রথযাত্রার বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। প্রতিবছর লক্ষাধিক ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম হয় এই উৎসবে। সেই বিপুল জনসমাগমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রথ নির্বিঘ্নে মাসির বাড়ি পৌঁছানোর সুবিধার্থেই প্রশাসনের এই বিশেষ উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *