বিরোধী রাজনৈতিক দল করেন বলেই আবাস যোজনার তালিকা থেকে বাদ গেছে নাম। এমনই অভিযোগ খোদ বিরোধীদল নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা এলাকায়
নিজস্ব :প্রতিনিধি নন্দীগ্রাম পূর্ব মেদিনীপুর
এক চিলতে ভাঙ্গা মাটির বাড়ি, বাড়ির ভেতর থেকে দেখা যাচ্ছে সূর্যের আলো, বৃষ্টি হলে পলিথিন দিয়ে দৃষ্টি আটকাতে হয়। তবুও পাননি আবাস যোজনার বাড়ি।
আবাস যোজনায় নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
বিরোধীদল নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম। সেই নন্দীগ্রামে আবাস যোজনার বাড়ি কবে আসবে? কবে ভাঙা বাড়ি ছেড়ে কংক্রিটের বাড়িতে শান্তিতে দুবেলার দু মুঠো ভাত খাবেন সেই অপেক্ষায় নন্দীগ্রাম 2 নম্বর ব্লকের বিরুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মামনি মাইতি।
২০২১ সালের পরে নন্দীগ্রামের রাজনীতির পট পরিবর্তন হয়েছে। হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের নন্দীগ্রামের মাটি। একের পর এক নির্বাচনে জয় পেয়েছে বিজেপি। ২৩ সের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে 11 টি গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে।
৩৪ সের লোকসভা নির্বাচনে প্রায় আট হাজার এরও বেশি ভোটে এগিয়ে বিজেপি।
নন্দীগ্রাম দু নম্বর ব্লকের বিরুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত বর্তমানে বিজেপির দখলে।
মামনি মাইতি স্বামী :- স্বপন কুমার মাইতি নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের বিরুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা।
মামনি মাইতি অভিযোগ আবাস যোজনার লিস্টে তার নাম ছিল। পঞ্চায়েত থেকে তার বাড়িতে দুবার সার্ভেও করতে আসা হয়েছিল।
নতুন বাড়ি হবে সেই আশায় ছিলেন,
কিন্তু আশা ভঙ্গ হলো তখন, যখন দেখলেন প্রত্যেকের নতুন বাড়ির জন্য বিভিন্ন ডকুমেন্ট জমা নেওয়া হচ্ছে কিন্তু তাকে ডাকা হচ্ছে না।
স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন আবাস যোজনার লিস্টে তার নাম বাদ গেছে।। পরবর্তীকালে কারো হিসেবে তিনি জানতে পারেন তার ভাঙ্গাচোরা বাড়ির বদলে অন্য কারোর পাকা বাড়ির ছবি দিয়ে সার্ভে করা হয়েছে।
মামনি মাইতির অভিযোগ তিনি তৃণমূল কংগ্রেস করেন আর স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে তাই ইচ্ছে করে আবাস তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।।
বাধ্য হয়ে এখন ভাঙ্গা বাড়িতে বসবাস করতে হচ্ছে।
অপেক্ষায় রয়েছেন কখন পাবেন আবাস যোজনার বাড়ি!
বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সোচ্চার হয়েছে।
নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি রবিন জানা অভিযোগ করেছেন,
মামনি মাইতির পরিবার তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক তাই ইচ্ছে করে বিজেপি পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েত আবাস যোজনার তালিকা থেকে তার নাম বাদ দিয়েছে।।
বিজেপি অবশ্য পুরো বিষয়টিকে অস্বীকার করেছে।
বিজেপি নেতা প্রলয় পাল দাবি করেছেন,
বিজেপি কোনভাবেই পক্ষপাতীত্বের রাজনীতি করে না। এই এলাকায় চারশোর উপরে আবাসের বাড়ি পেয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা তারা প্রত্যেকে কিন্তু বিজেপি সমর্থক নন।।
রাজনীতি তো চলতে থাকবে।
কবে পাবেন আবাসের বাড়ি? ভাঙ্গা বাড়ির জায়গায় পাকা বাড়ির ছবি কি সংশোধন করবে প্রশাসন?
সেই প্রশ্ন নিয়ে চিন্তায় মামনি মাইতির পরিবার।
দু’নম্বর ব্লকের ভিডিও অবশ্য পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।