২০০ বছরের প্রাচীন জমিদার বাড়ি!!৬৪ কক্ষ বিশিষ্ট চুনসুরকির স্থাপত্য,মাটির নিচের চোরাকুঠরি, ক্ষুদিরাম বসুর লুকিয়ে থাকার অজানা ইতিহাসে সমৃদ্ধ জমিদার বাড়ি হোক আপনার পরবর্তী ডেস্টিনেশন
২০০ বছরের প্রাচীন জমিদার বাড়ি!!৬৪ কক্ষ বিশিষ্ট চুনসুরকির স্থাপত্য,মাটির নিচের চোরাকুঠরি, ক্ষুদিরাম বসুর লুকিয়ে থাকার অজানা ইতিহাসে সমৃদ্ধ জমিদার বাড়ি হোক আপনার পরবর্তী ডেস্টিনেশন
নিজস্ব :প্রতিনিধি ভগবানপুর পূর্ব মেদিনীপুর
প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীণ মুগবেড়িয়া জমিদার বাড়ি। জমিদার বাড়িতে পরতে পরতে লুকিয়ে আছে ইতিহাস। ৬৪ কক্ষ বিশিষ্ট এই জমিদার বাড়ির মাটির নিচেও রয়েছে চোরা কুঠি। আর সেই চোরাকুঠিতে একসময় লুকিয়ে ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী ক্ষুদিরাম বসু। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ভগবানপুর ২ ব্লকের মুগবেড়িয়া গ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা এই জমিদার বাড়ি আজও অতীতের নানা স্মৃতি বয়ে বেড়ায়। চুনসুড়কি নির্মিত জমিদার বাড়ির বড় বড় দরজা-জানলা, মাটির নিচে গুপ্ত কক্ষ এবং সেই সময়ের স্থাপত্যকৌশল আজও নজর কাড়ে।
জমিদার ভোলানাথ নন্দ এই জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা। তিন পুত্রের মধ্যে গঙ্গাধর নন্দ ছিলেন এ এলাকার শিক্ষা বিস্তারের অন্যতম পথিকৃত। তিনি একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন—মুগবেড়িয়া গঙ্গাধর হাই স্কুল, বেলদা গঙ্গাধর একাডেমি, ললাট গঙ্গাধর একাডেমি এবং মুগবেড়িয়া গঙ্গাধর মহাবিদ্যালয়। শুধু স্কুল–কলেজ প্রতিষ্ঠাই নয়, পড়াশোনায় আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া বহু ছাত্রের শিক্ষার দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি। তাঁর উদ্যোগেই এই অঞ্চলে ধীরে ধীরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়ে। জমিদার পরিবারের আরেক সদস্য দিগম্বর নন্দ স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় তিনি সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশ নেন এবং বিদেশী দ্রব্য বয়কটের
নেতৃত্ব দেন।
এই জমিদার বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিউরে ওঠার মতন ইতিহাস, ক্ষুদিরাম বসুর আশ্রয়। স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তাল সময়ে দিগম্বর নন্দ নিজেই ক্ষুদিরামকে নিয়ে এসেছিলেন এই বাড়িতে। মাটির নিচের রহস্যময় চোরাকুঠিতে বহুদিন লুকিয়ে ছিলেন ক্ষুদিরাম। চোরা পথে তৈরি সেই কুঠিরে প্রাণভয়ে দিন কাটালেও তিনি ছিলেন দৃঢ় মনোবলে অটল। জমিদার বাড়ির সেই গোপন কুঠি আজও শিহরিত করে। বাড়ির ভগ্নাংশ, পুরোনো দেয়াল, পুরনো কড়িকাঠ—সবকিছুতেই যেন লুকিয়ে আছে সেই সময়ের গল্প।
আজও বহু ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মুগবেড়িয়া জমিদার বাড়ি। বাড়িটির অনেকটাই সংস্কার করা হয়েছে, তবু তার প্রাচীন ইতিহাস অক্ষত রয়েছে। দিঘা থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে এই বাড়িতে গেলে গা শিউরে ওঠা অনুভূতি জাগে। ৬৪ কক্ষের বিশাল বাড়ি, মাটির নিচের গোপন কুঠি এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি—সব মিলিয়ে এটি এক অনন্য ঐতিহাসিক নিদর্শন। দিঘা ঘুরে ফেরার পথে আপনি চাইলে অবশ্যই এই জমিদার বাড়ি একবার দেখে যেতে পারেন। হেঁড়িয়া থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে ভূপতিনগরের কাছে মুগবেড়িয়া জমিদার বাড়ি। যা আজও ইতিহাসপ্রেমীদের টানে নিজের দরজা খোলা রেখেছে।