যাত্রা পরিচালক কল্যান সমিতির মিলন উৎসব ও দুঃস্থ যাত্রাশিল্পীদের শীতবস্ত্র বিতরন

সুজিত মন্ডল, ময়না : পূর্ব-পশ্চিম মেদিনীপুর যাত্রা পরিচালক কল্যান সমিতি উদ্দোগে আজ বিভিন্ন যাত্রা প্রযোজক ও শিল্পী সৃজন প্রতিভাদের নিয়ে ময়না রামকৃষ্ণ অ্যাসোসিয়েশনে ২০২২ বর্ষে মিলন উৎসব ও দুঃস্থ যাত্রাশিল্পীদের শীতবস্ত্র বিতরণের অনুষ্ঠান করা হয় ৷এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ময়নার সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারীক রাজীব সর্দার, ময়না পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অভয়া দাস, ময়না পঞ্চায়েত সমিতির মৎস কর্মাদক্ষ সুদর্শন জানা, বিদ্যুৎ কর্মাদক্ষ স্বপন পাঁজা, সহ হাওড়া হুগলি কামারপুকুর পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন যাত্রা দলের পরিচালক অভিনেতা থেকে শুরু করে নাট্য ব্যক্তিত্বরা ৷যাত্রা পরিচালক কল্যান সমিতির সম্পাদক অলক প্ৰামাণিক এই মঞ্চ থেকে সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি রাখেন। তিনি বলেন যাত্রাশিল্পটিকে সরকারের কাছে লোক সংস্কৃতির মধ্যে রাখা হয় নি। অথচ রামকৃষ্ণ যাত্রা শিল্পকে লোক শিক্ষা বলে গেছেন। বাউল কীর্তন সম্প্রদায়ের লোকদের ভাতা দিলেও যাত্রাশিল্পের সঙ্গে যারা যুক্ত, যারা সুরকার ,মিউজিশিয়ান কাজের ছেলে নামমাত্র পারিশ্রমিক পান তাদের ভাতা দেওয়ার কথা মমতাময়ী সরকারের কাছে আবেদন রাখেন তিনি ৷ পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি ব্লকে একটা করে যাত্রা অ্যাকাডেমি গঠন করার কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন পশ্চিমবঙ্গ যাত্রা অ্যাকাডেমিতে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে একশোটি দলের মধ্যে মাত্র তিনটি থেকে চারটি দল যাত্রা করার সুযোগ পায় অথচ কলকাতার ২০ থেকে ২৫টি যাত্রা দল প্রত্যেকেই ঐ যাত্রা অ্যাকাডেমিতে যাত্রা করার সুযোগ পেয়ে থাকে |
সরণার BDO রাজীব সর্দার বলেন, যাত্রা শুধু বিনোদন নয়, যাত্রা গ্রাম গঞ্জের সংস্কৃতির বাহক। কিন্তু সেই যাত্রা আজ দুরদর্শন কেবল ইন্টারনেট এসে সংকুচিত করে দিয়েছে। তার উপর এখন কোভিডের কারনে অনিচ্ছা সত্বেও যাত্রা বন্ধ করে দিতে হচ্ছে ৷ এই শিল্পেরসঙ্গে পরিবারের বহু মানুষ জড়িয়ে আছে।
সংগ্রামী যাত্রা কমিটির বিশিষ্ট অভিনেতা কুমার অনুভব বলেন, যাত্রা যদি ভালো হয় তাহলে যাত্রাকে কোন দিন কেউ আটকাতে পারবে না ৷ যাত্রাকে ভালোবাসলে যাত্রা আবার আগের মতো স্বমহিমায় ফিরবে।

