ফিরত চাই সন্তান! শশুরবাড়ির সামনে ধরনা, অপেক্ষায় মা
নিউজ বাংলা টুডে: কথায় বলে সন্তানের জন্য মায়েরা সব কিছু করতে পারে, আর সন্তানের বিপদে দুর্গা থেকে চন্ডিরূপেও বদলাতে পারে নিমেষেই। তেমনি এক ঘটনার নজির মিলল তমলুক থানার গণপতিনগরে। শেষমেষ সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় ধরনায় বসলেন অসহায় মা। দাবি একটাই ফিরত চাই সন্তান! ফিরিয়ে দিতে হবে চার বছরের ফুটফুটে ছেলেকে। কিন্তু হঠাৎ কেন নিজের ছেলেকে ফেরত চাইতে হলো? কেনই বা শুর বাড়ি সামনে বসতে হলো ধরনায়? পিছনের কারণ জানলে অবাক হবেন আপনিও!

শশুর বাড়ির সামনে ধরনায় বসা মহিলা হলেন লাবনী সামন্ত। নন্দকুমার থানার বেতকল্লা গ্রামের বাসিন্দা তিনি। স্বামীর নাম হরেকৃষ্ণ সামন্ত, বাড়ি তমলুক থানার গণপতি নগরে। ২০১৫ সালে দেখাশুনা করে সামাজিক রীতিনীতি মেনেই বিয়ে হয়েছিল তাঁদের। লাবনীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হরেকৃষ্ণ সামন্ত ইন্ডিয়ান নেভিতে চাকরি করেন। তাই চাকরি-সুত্রে মুম্বাইতে থাকেন। বিয়ের পরে স্ত্রীকে মুম্বাই নিয়ে গিয়ে রেখেছিল হরেকৃষ্ণ। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে দুজনের মধ্যে সন্তান মনোমালিন্য শুরু হয়। এরমধ্যেই বিয়ের তিন বছর পর তাদের একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। এখনো পর্যন্ত হাজার ঝামেলা ঝঞ্ঝটের পরেও তারা স্বামী-স্ত্রীতে মুম্বাইতে এক সঙ্গেই থাকতেন। এবছর ফেব্রুয়ারি মাসে শেষের দিকে আশান্তি বাড়লে, তখনই সন্তানকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বংশধর, ছেলের পুত্র সন্তানকে কেড়ে নেওয়া হয় মায়ের কাছ থেকে। সন্তান ছাড়াই নিজের স্ত্রী লাবনীকে বাবার বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে যায় হরেকৃষ্ণ। পরে লাবনী জানতে পারে যে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে এবং কাগজপত্র লাবনী না বুঝেই সই করেছেন বলে জানান তিনি। ক্রমশ সন্তানের জন্য ছটফট করতে থাকেন তিনি! যার ফলস্বরূপ অবশেষে সন্তানকে ফিরে পেতে নামতে হয় কঠিন যুদ্ধে! অবশ্য মহিলার বাবা জানিয়েছেন এর মধ্যে একাধিকবার তারা নাতিকে ফিরে পাওয়ার আশায়, গিয়েছিলেন মেয়ের শশুরালয়ে, কিন্তু কোনও লাভই হয়নি।

তাই বাধ্য হয়েই শ্বশুর বাড়ির সামনে লাবনিকে বসতে হয় ধরনায়।স্থানীয় সূত্রে খবর স্বামী হরেকৃষ্ণ সামন্ত সহ তাদের গোটা পরিবারের লোকজন প্রতিবেশীদের সঙ্গে সেভাবে সুসম্পর্ক রাখেননি, তাই স্বাভাবিকভাবেই পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে কথাবার্তা প্রায় হতো না বললেই চলে। তারাও বলেন চাকরির সূত্রে হরে হরেকৃষ্ণ সামন্ত মুম্বাইতে থাকতেন, বিয়ের পর পাড়ি দেন স্ত্রীকে নিয়ে। তবে মাঝে মাঝে আসতেন বাড়ি। প্রতিবেশীরা জানান তারা নিজেদের মতোই বউমাকেও বেশি মিশতে দিতেন না আশেপাশের লোকজনের সাথে। তবে যদিও বৌমা লুকিয়ে চুরিয়ে নিজের দুঃখের কিছুটা জানাতেন প্রতিবেশীদেরকেও। যদিও এ বিষয়ে শশুর শাশুড়ির অত্যাচারের কথা কখনোই ওঠেনি। স্বামীর সাথে তুমুল অশান্তি এবং তার জেরেই একাধিকবার গায়ে হাত তোলার কথা বলতেন লাবনী। এলাকাবাসীর দাবি সন্তানকে ছিনিয়ে নেওয়ার পর প্রায় সাত মাস পর্যন্ত গোটা পরিবারকেই দেখা যায়নি পুরানো বসতঘরে। অনুমান গোটা পরিবার-ই পাড়ি দিয়েছিল মুম্বাইতে, তবে সঠিক খবর জানেন না কেউই।এতগুলো মাসের পর জানা যায় তারা ফিরেছেন নিজের বাড়িতে।

বহুদিন পর বাড়ির তালা খোলা দেখে অনুমান করেন সকলেই। আর খবর পেয়ে পাওয়া মাত্রই আবারো সন্তানকে ফিরে পেতে শ্বশুর গৃহে হানা দেন লাবনী ও তার পরিবার। সকাল আটটা নাগাদ ধরনায় বসতে দেখা যায় তাকে , এবারের লড়াইয়ে পাশে আছে পরিবার। ধরনার সময় বাড়তে থাকে তবু বাড়ি থেকে বের হননি কেউই। ধীরে ধীরে কাটতে থাকে তিন দিন।এরপর লাবনীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানা পুলিশ আইন আদালত করেও এখনো পর্যন্ত কিছু হয়নি। তাই আজ থেকে লাবনী তমলুক থানার গণপতিনগরে হরেকৃষ্ণ সামন্তের বাড়ির সামনে ধরনায় বসেছে পুত্র সন্তানকে ফেরত পাওয়ার দিবি ও ভরনপোসনের দাবি জানিয়ে। তবে সম্ভবত এই ধরনায় বসার খবর পেয়ে হরেকৃষ্ণ সামন্তের পরিবারের কেউ বাড়িতে নেই। বাড়ি তালাচাবি বন্ধ। পুলিশ আসলে ভাঙ্গা হয় বাড়ির তালা।কিন্তু অবাক কান্ড গোটা বাড়িই ফাঁকা ! সকাল থেকেই দেখা যায়নি বাড়ির কাউকে।লাবনী সামন্ত ও তার বাবা জানিয়েছে যতক্ষণ না প্রতিকার হয় এবং তার পুত্রকে ও অধিকার ফিরে পায় ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি এই বাড়ির সামনেই ধরনায় বসে থাকবেন।

