প্রাক্তনী ছাত্রদের উদ্যোগের স্কুলে বসলো পরিশুদ্ধ পানীয় জলের মেশিন

সৌমেন আদক, ঝাড়গ্রাম: একটিমাত্র কুয়োর জলের উপর ভরসা করে থাকতে হতো স্কুলের ছাত্রদের । দড়ি বালতি দিয়ে জল তুলে ভাগ করে খেতে হতো ছাত্রদের মধ্যে । সেই অতীতের কথা এখনো ভুলে যায়নি বয়স ষাটের দোরগোড়ায় পৌঁছানো ছাত্ররা । বর্তমান সময়ে কেউ স্বাস্থ্য দপ্তরের বড় আধিকারিক, কেউ কারখানার মালিক, কেউ ব্যবসায়িক, কেউ আবার রাজনৈতিক দলের বড় মাপের নেতা । এই সমস্ত ছাত্ররা তাদের অতীতের দিনগুলি যেন না ফিরে আসে তার জন্য এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

ঝাড়গ্রাম ননীবালা বিদ্যালয়ের ১৯৮৪ সালের মাধ্যমিক ব্যাচের প্রাক্তনীরা একজোট হয়ে বিদ্যালয়ে একটি শীতল পানীয় জলের মেশিন বসায় । নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তীর দিনেই শীতল পানীয় জলের মেশিনটির শুভ উদ্বোধন হয়। কেন এই উদ্যোগ সেই প্রসঙ্গে ১৯৮৪ সালের মাধ্যমিক ব্যাচের প্রাক্তনী তরুন কুমার খাঁ, আশীষ কুমার আচার্য, দেবজ্যোতি ঘোষ, সন্দীপ দত্তরা বলেন , “আমরা যখন স্কুলে পড়তাম তখন স্কুলের একটি মাত্র কুয়ো ছিল। দড়ি বালতি দিয়ে সেই কুয়ো থেকে জল তুলে আমরা খেতাম । গরমের সময় জল অনেক নিচে চলে গেলে খুবই সমস্যা হতো। জল খাওয়ার জন্য স্কুলের পাশের বাড়িতে যেতে হতো । কিছুদিন আগেই বিদ্যালয়ে ৭৫ বছর পূর্তি উৎসব পালন হয় আমরা সবাই একত্রিত হয়েছিলাম তখন আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম বিদ্যালয়ে একটি পরিশ্রুত শীতল পানীয় জলের বসাব । সেই মতো আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাই এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের অনুমতি দেয় । আজ এই পরিশ্রুত শীতল পানীয় জলের মেশিনটির শুভ উদ্বোধন হলো” । সোমবার বিদ্যালয়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৬তম জন্মজয়ন্তী উদযাপনের পর পরিশ্রুত শীতল পানীয় জলের মেশিনটি শুভ উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তিপদ বিশুই সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা এবং ১৯৮৪ সালের মাধ্যমিক ব্যাচের প্রাক্তনীরা । শীতল পানীয় জলের মেশিন উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে এক গ্লাস জল পান করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক । বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তিপদ বিশুই বলেন, “আমি প্রথম যখন স্কুলে জয়েন্ট করেছিলাম তখন দেখেছিলাম একটি কুয়োর জলের উপর ভরসা করে স্কুলটি চলতো । পরবর্তী সময় সরকারের অনুদানের সাবমারসিবল পাম্প হয়। স্কুলটিও বড় করে তৈরি করা হয়। সমস্ত স্কুলেই পানীয় জলের ব্যবস্থা রয়েছে । কিন্তু প্রচণ্ড গরম পড়ে গেলে ট্যাংকির জল গরম হয়ে গেলে ছাত্ররা সেই জল আর খেতে পারেনা । এই অবস্থায় এই পরিশ্রুত শীতল পানীয় জলের মেশিনটি খুবই কাজে লাগবে । আমি আশা করব ভবিষ্যতে এইভাবে আমাদের প্রাক্তনীরা স্কুলের পাশে এসে দাঁড়ালে স্কুলটি আরো উন্নত হবে”।

১৯৮৪ সালের মাধ্যমিক ব্যাচের সময় ছাত্র ছিল ৬৪ জন। তাদের মধ্যে এখন বর্তমানে ৩৬ জন রয়েছে। ৩৬ জনকে নিয়েই তারা গঠন করেছে “১৯৮৪ দিগন্তিকা নামের একটি নিজেদের সংগঠন । এর মাধ্যমে” । তারা বিভিন্ন সময় সামাজিক কাজ করে থাকেন । অতীতে স্কুলের দুঃস্থ মেধাবী ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ১৯৮৪ সালের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক নারায়ণ সিংহ এবং তার পরবর্তী প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জন সাউ এর স্মৃতিতে আর্থিক সহায়তা তুলে দিয়েছে ।


