দোলের রঙ সাবধান! অবশ্যই এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন?

নিউজ বাংলা টুডে ডেক্স:একদিন দোল। আরেকদিন হোলি। কোথাও কোথাও তো তিনদিন ধরে চলে রঙের খেলা। কেউ কেউ আবার মেতে ওঠেন প্রি ও পোস্ট হোলিতেও। কিন্তু জানেন কি? এই রংবাজিতে আপনি যে আবির ব্যবহার করছেন, তা আপনার জীবনকেও রাখছেন বাজিতে ?

দোলের রঙ থেকে অনেকেরই ত্বক বিগড়ে যেতে পারে। র্যাশ, একজিমা আর ইচিং ছাড়াও কারও কারও আবার শ্বেতীর মতো দুধ সাদা দাগ হয়ে যায়। বাড়ে অ্যালার্জি জনিত অ্যাজমার অ্যাটাক। প্রত্যেক বার দোলের পর এ রকম সমস্যা নিয়ে চেম্বারে ভিড় জমানো রোগীর সংখ্যা নেহাতই কম নয়। অথচ একটু সতর্ক থাকলেই এই ধরনের শারীরিক উৎপাতের হাত এড়ানো যায় সহজেই। রাসায়ানিক রঙের বদলে প্রকৃতি থেকে তৈরি রং দিয়ে দোল খেললে এই সব সমস্যা কাছে ঘেঁষতে পারবে না।

১| অ্যাজমা:
এই দিন বাতাসে উড়বে আবির। ফলে অ্যাজমা বা সিওপিডি রোগীদের সমস্যার আশঙ্কা বেড়ে যায়। আসলে এনাদের ফুসফুসে রাসায়নিক যুক্ত আবিরের কণা পৌঁছে গেলে অ্যালার্জি হয়। তখন শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তাই অ্যাজমা রোগীরা যতটা সম্ভব রং, আবির থেকে দূরে থাকুন। এছাড়া ইনহেলার সঙ্গে রাখতে হবে। শ্বাসকষ্ট শুরু হলে একবার নিয়ে নিন। একান্ত রং খেলার ইচ্ছে হলে মাস্ক পরতে পারেন। তবেই আবির নাক হয়ে ফুসফুসে যেতে পারবে না।

২| ফাংগাল ইনফেকশন:
অনেকেরই শরীরে ফাংগাল ইনফেকশনের সমস্যা রয়েছে। রাসায়নিক রঙের কারণে তা আরও সমস্যা বাড়িয়ে তোলে। একারণে ত্বকে চুলকানি, লাল লাল ফুসকুড়ি, জ্বালা ধরার মতো উপসর্গ দেখা যায়। এতে সমস্যা আরও গুরুতর হয়ে ওঠে।

৩|চোখের সমস্যা:
দোলের রঙে লুকিয়ে ক্ষতিকর উপাদান – এই রঙগুলির মধ্যে একাধিক রাসায়নিক যৌগ রয়েছে। যা চোখের পাশাপাশি ত্বক ও চুলেরও মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। আজকাল নানা রঙের মধ্যে লিড অক্সাইড, কপার সালফেট, অ্যালুমিনিয়াম ব্রোমাইড, মার্কারি সালফাইড- সহ একাধিক উপাদান মেশানো হয়। এর পাশাপাশি গুঁড়ো রং বা আবিরের মধ্যে অ্যাসবেসটস, সিলিকা, লিড, ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়াম ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ থাকে। যা চোখের জন্য অত্যন্ত ভয়ংকর।কর্নিয়া রক্ষাকারী এপিথেলিয়ামকে নষ্ট করে দিতে পারে। চোখ ফুলে যাওয়া, লাল হওয়া, চুলকানি, এলার্জি থেকে শুরু করে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি দৃষ্টিশক্তিও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যদি কেউ কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, তাহলে দোলে এই বিষয়গুলি মেনে চলতে হবে।

রাসায়নিক রঙের ব্যবহার যত কম করা যায় ততই ভালো। এতে ত্বক, চোখ ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গগুলি নষ্ট করার ক্ষমতা রাখে। বিশেষ করে ছোটদের ক্ষেত্রে তা আরও মারাত্মক।

