ব্রেকিং নিউজ

নেতাজি বিষয়ক বিস্ফোরক তথ্য কেন্দ্রের! ফাঁস লুকায়িত তথ্য

নিউজ বাংলা টুডে ডেস্ক : ঘুমনামী বাবা সেজেই কি বেঁচে ছিলেন নেতাজি ? কেন্দ্রীয় তথ্য ফাঁসেই বা কেন এত লুকোচুরি? আজও এই সকল প্রশ্নোত্তরের ব্যাখায় রয়েছে বহু জটিলতা।তবে এবার সামনে এলো কেন্দ্রের সেই লুকায়িত তথ্য! বেড়িয়ে এলো মৃত্যু রহস্যের পিছনে থাকা আসল কাহিনী।

শোনা যায় নেতাজির মৃত্যুর কারণ ঘিরে রয়েছে একাধিক রহস্যময় ইতিহাস। যদিও ভারত সরকারের মতানুযায়ী প্লেন দুর্ঘটনায় ১৯৪৫-এর ১৮ অগাস্ট মৃত্যু হয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর। কিন্তু এ কথা মানতে নারাজ বৃহদাংশের ভারতীয়। অনেকেরই মতে এর পরেও জীবিত অবস্থায় খোঁজ মেলে তাঁর। এমনকি নেতাজি ঘনিষ্ঠ ব্যাক্তিদের মুখেও শোনা যায় সে কথা। আর সেখান থেকেই সূত্রপাত রহস্যের!

পরবর্তীকালে তাঁর মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা করলে বেড়িয়ে আসে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। কোনও তথ্যে ‘গুমনামি বাবা’ (Gumnami Baba) সেজেই থাকতেন নেতাজি (Netaji) , তো কোনোটায় আবার ‘শৈল মারি সাধু’র ছদ্মবেশে বেঁচে ছিলেন তিনি। বলতে গেলে তার অন্তর্ধান একের পর এক তথ্যের ভিত্তিতে হয়ে উঠেছে রহস্যময়ী কাহিনী।

নেতাজি মৃত্যু রহস্য অনুসন্ধান করতে তৈরি হয়েছিল মুখার্জি কমিশন। ঘুমনামী বাবার মৃত্যুর পর তার কয়েকটি দাঁত রামভবন থেকে সংগ্রহ করে রাখা হয় কলকাতায় সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে। যেখানে মুখার্জি কমিশনের তদারকিতে দাঁতগুলি নিয়ে করা হয় ডিএনএ টেস্ট। সেই সময় সায়ক সেন নামের এক ব্যক্তি গুমনামি বাবার ওই ডিএনএ টেস্টের ইলেকট্রোফেরোগ্রাম রিপোর্ট চেয়ে আরটিআই করেছিলেন।

সম্প্রতি জবাবে তাকে বলা হয়, গুমনামি বাবার ইলেকট্রোফেরোগ্রামটি যদি প্রকাশ্যে আসে, তাহলে দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর তার প্রভাব পড়বে এবং হিংসা ছড়িয়ে পড়তে পারে ভারতে। এই ঘটনার রহস্যও কিছু কম না! একই রিপোর্টের ভিত্তিতে কলকাতা এবং হায়দ্রাবাদ ল্যাবরেটরীর দেওয়া উত্তর ছিল ভিন্ন ।

হায়দরাবাদের ল্যাবরেটরির রিপোর্টে বলা হয়েছিল, সেটি থেকে চূড়ান্ত কিছু নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। অথচ কলকাতার ল্যাবরেটরি থেকে পরিষ্কার বলা হয়েছিল নমুনা একেবারেই মিলছে না। কিন্তু দুই ল্যাবরেটরির কোনও একটির ইলেকট্রোফেরোগ্রাম রিপোর্টও প্রকাশ্যে আনা হয়নি।

সায়ক নামের ওই আরটিআর কর্মীর দাবি সেই সময় তাঁকে বলা হয়েছিল ওই ইলেকট্রোফেরোগ্রামটি নেই। তাঁর বক্তব্য, ইলেকট্রোফেরোগ্রাম ছাড়া ডিএনএ-র কোনও গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। যদিও পরে আবার আরও একটি জবাব পান তিনি। সেখানে তাঁকে জানানো হয়, খোঁজাখুঁজির পর সেটি পাওয়া গিয়েছে, কিন্তু সেটি দেওয়া যাবে না তাঁকে। কারণ, তিনি থার্ড পার্টি।

তবে ফার্স্ট পার্টি, সেকেন্ড পার্টি কারা, তা সায়ক বাবুকে জানানো হয়নি। সায়ক বাবুর বক্তব্য, মুখার্জি কমিশন অনেকদিন আগে শেষ হয়ে গিয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মুখোপাধ্যায়ও প্রয়াত হয়েছেন। গুমনামি বাবাও প্রয়াত। এমন পরিস্থিতিতে সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ তিনি আরও একটি আরটিআই করেন।

যেখানে তিনি জানতে চান ইলেকট্রোফেরোগ্রামটি নষ্ট হয়ে গিয়েছে কিনা। তিনি পুনরায় ফিরে পেতে চেয়েছিলেন সেই ইলেক্ট্রোফোরোগ্রাম রিপোর্ট। তবে সেবারেও তাঁকে দেওয়া হয় একই উত্তর। তথ্য বাইরে এলে হিংসা ছড়িয়ে পড়তে পারে গোটা দেশে- এমনই এক ব্যাখ্যা দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। সে সময় নিরাশার সাথেই ফিরতে হয় সায়ক বাবুকে। তবে এর কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারো বেরিয়ে আসে আরেক বিস্ফোরক তথ্য।

SUPREME COURT JUDGE: MANOJ KUMAR MUKHERJEE

সায়ক বাবুর দাবি, তাঁর সঙ্গে অতীতে এই বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছিল অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মুখোপাধ্য়ায়ের। তিনি সায়ক বাবুকে বলেন ওই ডিএনএ রিপোর্টটি সঠিক নয়। এ বিষয়ে সায়কবাবু আরো বলেন, মুখার্জি কমিশনের রিপোর্ট পড়লেই বোঝা যাবে। নেতাজি ও গুমনামি বাবার হাতের লেখা পরীক্ষা করা হয়েছিল। লীলা রায়, সুনীল দাস, অনিল দাসের মতো বিপ্লবীরা ওনাকে নেতাজি বলে চিহ্নিত করেছেন। শুধু ডিএনএ-র জন্যই প্রমাণ করা যায়নি গুমনামি বাবা নেতাজি।

যদিও নেতাজির ভ্রাতৃস্পুত্র তথা বিশিষ্ট সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মী চন্দ্র বসুর সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি আরটিআই উত্তরটি এখনও দেখিনি। তবে যে রিপোর্ট আছে ডিএনএ টেস্টের, সেটি প্রকাশ্যে জানানোতে কোনও অসুবিধা আছে বলে আমি মনে করি না।

ওটি তো বৈজ্ঞানিকভাবে ডিএনএ টেস্ট করা হয়। আমি তো শুনেছিলাম, ডিএনএ টেস্ট নেগেটিভ এসেছিল। রেনকোজি মন্দিরে যে অস্থি রাখা আছে, তা পরীক্ষার জন্য নেতাজি পরিবারের অনেকেই নমুনা দিয়েছিলেন। গুমনামি বাবার দাঁতের সঙ্গেও ডিএনএ টেস্ট করানো হয়, সেই রিপোর্টটি নেগেটিভ আসে”।

নেতাজির সঙ্গে তাঁর কোনও মিল পাওয়া যায়নি। সেটির বৈজ্ঞানিক রিপোর্ট প্রকাশ্য জানা যেতে পারে। রিপোর্ট তো জানাই আছে নেগেটিভ। তাহলে এই নেগেটিভ কীভাবে এল, তা জানাতে অসুবিধা কোথায়? এটা সরকারই বলতে পারবে, কেন এটি প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না। নেতাজি সঙ্গে ওনার কোনও সম্পর্ক নেই, তা জাস্টিস মুখার্জিও তাঁর রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন।”

এ তো গেলো ঘুমনামী বাবার কাহিনী। তবে শৈলমারী বাবার কাহিনীটা কিন্তু ছিল একেবারেই ভিন্ন। অনেকেরই মতে শৈলমারী বাবা ওরফে সারদানন্দজিই ছিলেন নেতাজি।

নেতাজির প্রয়াণ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায়, অনেকেই বিশ্বাস করতেন কোনও এক দিন তিনি ঠিকই ফিরে আসবেন। হয়তোবা তিনি লুকিয়ে বেঁচে আছেন ভারতেরই কোনও না কোনো স্থানে। কিছুদিন পরেই হয়তো সদ্য স্বাধীন দেশটির হাল ধরবেন পোক্ত হাতে। অবশ্য এই কাহিনীতে অনেকটাই রং চড়ায় শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লেখা গল্প।

অনেকেরই ধারণা, সেই বিশ্বাস থেকেই শৌলমারির সাধুর সঙ্গে নেতাজির মিল খোঁজার চেষ্টা শুরু হয়। যাঁরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন ওই সাধুই নেতাজি, তাঁরাও তাঁর কাছে ঘেঁষতেন না। সেই সাধুও কম কথা বলতেন। কেবল তাঁকে দেখতে পাওয়া যেত। আর তাতেই শুরু হয় কল্পনার প্রসার। এগোতে থাকে দিন, এককালের সেই গল্পকথাই পরিণত হয় আজকের অনুমানে।

আজও মাথা ভাঙ্গার, কালফাটা শহর ঘেঁষে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরত্বে থাকা সেই গ্রামটিতে ওই সাধুর আশ্রমে দেশভক্তির টানে ছুটে যান নেতাজিপ্রেমীরা। শৈলমারিতে মাথা ঠেকান ভারতের রত্ন তথা বীর দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর উদ্দেশ্যে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *