এবার মাতৃগর্ভ ছাড়াই জন্ম নেবে শিশু! কৃত্রিম গর্ভেই বেড়ে উঠবে ভ্রুণ
নিউজ বাংলা টুডে : সম্প্রতি বিজ্ঞানের যুগান্তকারী আবিষ্কার মাতৃ গর্ভের বিকল্প মেশিন তাক লাগালো সারা বিশ্বকে। এবার মাতৃগর্ভ ছাড়াই মেশিনে বেড়ে উঠবে শিশু। আগামী ৩ দশক অর্থাৎ প্রায় ২০৩৪ সালের মধ্যেই এই মেশিনের মাধ্যমে কার্যকরী হতে চলেছে বিকল্প জন্ম পদ্ধতি। কৃত্রিম এই পদ্ধতির নাম একটোজেনেসিস। এই পদ্ধতির মাধ্যমে শরীরের বাইরে বেড়ে ওঠবে একটি জৈব দেহ। গর্ভ ছাড়াই শিশু বেড়ে উঠবে স্বাচ্ছন্দে ও নিরাপদে।
ইঁদুর বা ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে যা ইতিমধ্যে প্রয়োগ করা হয়েছে। আসল গর্ভাশয়ের বদলে কৃত্রিম গর্ভাশয়। অবশ্য এই কৃত্রিম গর্ভাশয় হতে পারে কোন প্লাস্টিকের ব্যাগ বা কোন কাচের জার। যার মধ্যে থাকবে ভরপুর অমনিওটিক ফ্লুইড। অনেকগুলি তারের মাধ্যমে একটি প্লাসেন্টা যন্ত্র দিয়ে সংযুক্ত করা থাকবে ওই কৃত্রিম গর্ভাশয়। এবার অনেকেরই মনে হতে পারে তাহলে বাচ্চার অনুভূতি বোঝা যাবে কেমন করে? গবেষকরা বলছেন চিন্তা নেই এ ক্ষেত্রেও। মেশিনের সাথে যুক্ত ওই তার গুলোই চিন্তা মেটাবে সকলেরই। তার গুলোর মাধ্যমেই শিশুর শরীরের হৃদস্পন্দন, তাপমাত্রা ,ওজন ইত্যাদি বোঝা যাবে সহজেই। গবেষকদের দাবি এই যন্ত্র আসার পরে প্রয়োজন পড়বে না সারোগেট মাদারের। সারোগেট মাদারের বদলে ব্যবহৃত হবে এই কৃত্রিম যন্ত্রটি। সন্তান জন্ম প্রক্রিয়ায় কমবে মাতৃ মৃত্যু ও সন্তান মৃত্যুর হার। এছাড়াও বেশি বয়সের দম্পতির ক্ষেত্রে এই কৃত্রিম পদ্ধতি হয়ে উঠবে আশীর্বাদ। বিজ্ঞানীদের মতে এই পদ্ধতি আশার আলো দেখাবে বহু অসহায় দম্পতিদের, সন্তানের অভিভাবক হবেন তারাও ।

বর্তমানে অপরিণত শিশুকে ইনকিউবেটরে রাখলে বাঁচানো যায় না ঠিকই তবে সেখানের বাতাস শিশুর পক্ষে ক্ষতিকর, তাই এবার থেকে ইনকিউবেটরের বদলে ব্যবহৃত হবে এক কৃত্রিম মেশিন। পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান পেয়ে শিশু বাড়বে মেশিনের মধ্যে। মাতৃ গর্ভের ন্যায় মেশিনের মধ্যে নিরাপদেই বেড়ে উঠবে শিশু। এর আগেও এই পদ্ধতি অবলম্বনে ব্যাকটেরিয়া ও ইঁদুরের ভ্রুন তৈরিতে সফলতা পেয়েছেন গবেষকরা। ইতিমধ্যেই একটোজেনেসিস পদ্ধতিতে গবেষকরা সফলভাবে জন্ম দিয়েছেন মেষ সাবককেও। তবে এখনো পর্যন্ত এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়নি মানুষের উপরে খুব শীঘ্রই পালা এবার মানুষের।

আবার অন্যদিকে এই পদ্ধতি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকেই। অনেকেরই দাবি এই পদ্ধতি আশায় শিশুর প্রতি টান কমবে মায়ের। কমবে নিজ গর্ভে শিশু ধরণের ইচ্ছেও। এই পদ্ধতি অতিরিক্ত হারে ব্যবহার হলে তা মানবজাতির পক্ষে হয়ে উঠবে বিপদজনক। অনেক বিশিষ্টরা দাবি করেছেন এই পদ্ধতি বেছে নেওয়ার ফলেই নিজ গর্ভের সন্তান পালনের ক্ষমতা হারাবেন হারাবে আগামী প্রজন্মের মহিলারা। যা মানবজাতির পক্ষে আনবে সংকটজনক পরিস্থিতি। তবে যে কোন নতুন পদ্ধতির সম্বন্ধেই সবটা অনুমানের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎবাণী করা কখনোই সম্ভব নয়, তাই পদ্ধতির সফলতার দিকে তাকিয়ে আছেন সকলেই। আপাতত ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় যুক্তিই এগিয়ে চলেছে সমান তালে।


