ব্রেকিং নিউজমালদা

এবার প্রতারণার ফাঁদে তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী, জয়েন্ট বিডিওর পরিচয় দিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হল কুড়ি হাজার টাকা, চাঞ্চল্য এলাকায়

নিজস্ব প্রতিনিধি , ১০ডিসেম্বর: এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী। তিনিই কি কিনা শেষে প্রতারিত হলেন। শুনতে একটু অবাক লাগলেও সত্যি। মালদা জেলার হরিশচন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত হরিশচন্দ্রপুর গ্রাম-পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান রিষবা খাতুনের স্বামী তথা তৃণমূল নেতা আফজাল হোসেন। বুধবার তার কাছে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের জয়েন্ট বিডিও বলছি করে একটি ফোন আসে। বুধবার বিকেলের দিকে ফোন আসে একটি নাম্বার থেকে। প্রথমে প্রশাসনিক ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে বিভিন্ন কথা-বার্তা বলেন। তারপরই ফোন রেখে দেন এবং কিছুক্ষণ পর আবার ফোন করে জয়েন্ট বিডিওর পরিচয় দিয়ে পারিবারিক অসুস্থতার কথা বলে অর্থ সাহায্য চান। তৃণমূল নেতা আফজাল হোসেন সাহায্য স্বরূপ কুড়ি হাজার টাকা অনলাইন মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন।

জয়েন্ট বিডিওর পরিচয় দেওয়া প্রতারক জানান বেতন হলে টাকা ফেরত দিয়ে দেবেন। কিন্তু টাকা পাঠানোর পর থেকেই আর তৃণমূল নেতার ফোন করলে আর ওই নাম্বার থেকে কোন উত্তর আসে না। তারপরেই সন্দেহ হয় আফজাল হোসেনের। খবর নিয়ে জানতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। ঘটনাটি সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। তিনি দলীয় নেতৃত্ব কে ঘটনাটি জানান এবং হরিশ্চন্দ্রপুর থানাতেও লিখিত অভিযোগ করেন। এই ঘটনা সামনে আসতেই আরেকটি চাঞ্চল্যকর খবর সামনে আসে। শুধু তৃণমূল আফজাল হোসেন নয়, এরকম ফোন এসেছিল এলাকার আরো পাঁচজন প্রধানের কাছে। কিন্তু তারা কেউ টাকা দেন নি। এমনকি প্রতারিত হয়েছে একজন সিভিক ভলেন্টিয়ার। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যেখানে শাসক দলের নেতা বা জন-প্রতিনিধিরা প্রতারিত হচ্ছে সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?

যে বা যারা এই ঘটনার পেছনে যুক্ত আছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন তৃণমূলের উচ্চ নেতৃত্ব। সঙ্গে জানান এই নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা প্রচার করা হবে। যাতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কারোর সাথে না ঘটে।

হরিশচন্দ্রপুর গ্রাম-পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান রিষবা খাতুনের স্বামী তথা তৃণমূল নেতা আফজাল হোসেন বলেন গতকাল আমার কাছে জয়েন্ট বিডিওর নাম করে ফোন আসে। পারিবারিক অসুস্থতার কথা ধার চায়। আমি পাঠিয়ে দি। তারপরেই ফোন ধরছে না। খোঁজ নিয়ে জানতে পারে এর আগেও এমন হয়েছে। দেখা যাক কী ব্যবস্থা নিতে পারি। আমার পঞ্চায়েতে এই নিয়ে একটি বৈঠক ডাকবো।”

তৃণমূল অঞ্চল চেয়ারম্যান সঞ্জীব গুপ্তা বলেন, জয়েন্ট বিডিওর নাম করে প্রতারণা করেছে। প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলব প্রশাসনকে। সঙ্গে আমরা সচেতনতা মূলক প্রচার চালাবো।

সমস্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন
হরিশ্চন্দ্রপুর থানা আইসি সঞ্জয় কুমার দাস।

মানুষের হাতে যত মোবাইল আসছে। ডিজিটাল হচ্ছে দুনিয়া। ততো প্রতারণার পরিমাণ বাড়ছে। ডিজিটালাইজেশনের বহু সুফলের সঙ্গে এটা একটা কুফল। তবে মানুষ নিজে সচেতন হলেই এই প্রতারণা রুখতে পারবে। প্রতারকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সঙ্গে সাধারণ মানুষকে অনেক বেশি সচেতন হতে হবে অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবহারের ক্ষেত্রে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *