Evergreenপূর্ব মেদিনীপুরস্পেশাল

তমলুক শহরের ‘আলোক দীপ্ত গৌরব’ “দেবী বর্গভীমার মন্দির”

পূর্ব মেদিনীপুর: বাংলায় তখন সেন যুগ, বাংলার রাজা বল্লান সেন। আজকের তমলুক তখন তাম্রলিপ্ত, তাম্রলিপ্তের রাজা মাহিষ্য রাজ তাম্রধ্বজ। তাম্রলিপ্তের এই রাজার হাতেই প্রাণ প্রতিষ্ঠা পায় মাতৃ মন্দির দেবী বর্গভীমা।পুরান অনুযায়ী দক্ষযজ্ঞের সময়ে দেবী সতীর যে ৫১ টি খন্ড বিষ্ণু তার সুদর্শন চক্র দিয়ে খন্ড করেন, সেই ৫১ টি খন্ড, ভূপৃষ্ঠে যেখানে যেখানে পতিত হয়, সেটি এক একটি দেবী পীঠে পরিণত হয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সদর শহর তমলুক এখানে দেবীর বাম গুলফো বা বাম পায়ের গোড়ালি পতিত হয়েছিল। এখানে দেবীর পূর্বতন নাম ছিল বিভাস। আজ বর্তমানে দেবী বর্গভীমা নামে পরিচিত ও পুজিত। কিংবদন্তি কাহিনী অনুযায়ী, এই মন্দিরে নিত্য দিন মাকে শোল মাছের রান্না প্রসাদী হিসেবে নিবেদন করা হতো।

প্রত্যেকদিন মাছের যোগান দিতে না পারায়, ঠাকুর মশাই কে মা স্বপ্নে দেখা দিলেন। মাতৃকুণ্ডের জল নিয়ে মৃত শোল মাছের উপর দিলে মাছ জীবন্ত হয়ে উঠবে,এই ছিল মায়ের আদেশ । যা আজ কিংবদন্তি লোক মুখে মুখে প্রচারিত। মাতৃ মন্দিরের সারা বছরই পুণ্যার্থীদের ভিড় লেগে থাকে। সারা বছর বহু যুবক যুবতীর চার হাত এক হয়।

তথা বিবাহ, অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠান, মা বর্গভীমা কে সাক্ষী রেখে সারা বছর হয়ে থাকে। এক সময় নিত্য যাতায়াত ছিল, স্বাধীনতা সংগ্রামী ক্ষুদিরাম বসুর। মাতৃ মন্দির দর্শন করেছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও।এই মন্দিরে সর্বোপরি অন্যান্য মন্দিরের মতো পান্ডার পান্ডাদের উপদ্রব নেই। মন্দিরে মায়ের প্রসাদী ভোগ ভারতের মধ্যে প্রথম পরিষ্কার ভোগ পরিবেশন করার জন্য “A1” সার্টিফিকেট পেয়েছে। পুরা কালের যে মাতৃ মন্দির, সুলেমান করনানির সেনাপতি মূর্তি নাশক কালাপাহাড়, ধ্বংস করতে এসেও যেটি পারেননি। সেই দেবী মূর্তি ও মন্দির আজও তমলুক শহরের, গৌরব হিসেবে, প্রতি সন্ধ্যা ভক্ত সমাগমে ভরে ওঠে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *