মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একমাস নিখোঁজের পর মিলল ভারতীয় পড়ুয়ার দেহ।
ফের একবার মার্কিন মুলুকে ভারতীয় পড়ুয়ার মৃত্যু। এই নিয়ে এবছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনা ঘটল ১১ বার। গত সপ্তাহে ওহাইওতে এক ভারতীয় ছাত্রের মৃতদেহ পাওয়া যায়। আর তার তিনদিন কাটতে না কাটতেই ফের মিলল ভারতীয় পড়ুয়ার দেহ। এহেন ঘটনার বৃদ্ধি ভারতীয়দের ওপর আমেরিকান সম্প্রদায়ের অত্যাচারের বিষয়টিই বেশি জোরালো হচ্ছে।
মূলত, গত ১ মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন ঐ ভারতীয় পড়ুয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। জানা গিয়েছে, ওই পড়ুয়া হায়দ্রাবাদের বাসিন্দা। মৃত ছাত্রের নাম মহম্মদ আবদুল আরফাথ।নিউইয়র্কের ভারতীয় কনস্যুলেট থেকে আরফাথের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নিউইয়র্কে ভারতের কনস্যুলেট জেনারেল ট্যুইট করে জানিয়েছেন সম্পূর্ণ বিষয়টি। সেখানে তিনি লেখেন, “মহম্মদ আবদুল আরফাথ, যার জন্য অনুসন্ধানের অভিযান চলছিল। ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে তাঁকে। এই ঘটনায় মর্মাহত নিউইয়র্ক”। ভারতের কনস্যুলেট জেনারেল আরও জানিয়েছেন, যে ক্লিভল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ার মৃত্যুর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে। যার জন্য ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।যা জানা যাচ্ছে, আরফাথ ২০২৩ সালের মে মাসে ক্লিভল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তথ্য প্রযুক্তিতে স্নাতকোত্তরের জন্য বিদেশে আসেন। ২৫ বছর বয়সী ওই যুবক গত ৭ মার্চ নিখোঁজ হয়ে যায়।
মৃত পড়ুয়ার বাবা জানিয়েছেন, ৭ মার্চের পর থেকে আরফাথের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। এবং তাঁর ফোনও বন্ধ ছিল।১৯ মার্চ, প্রথম আরফাথের পরিবারের কাছে মুক্তিপণের জন্য ফোন আসে। তাঁদের জানানো হয়, আরফাথকে মাদক বিক্রিকারী একটি দল অপহরণ করেছে। তাঁর মুক্তির জন্য প্রায় ১ লক্ষ টাকা দাবি করে। আরফাথের বাবা বলেন, ‘মুক্তিপণ না দিলে অপহরণকারীরা তাঁর কিডনি বিক্রি করে দেবে বলেও হুমকি দেয়’।২১ মার্চ, ভারতীয় কনস্যুলেট বলেছিল যে তাঁরা আরফাথকে শনাক্ত করতে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। পড়ুয়ার পরিবার বিদেশ মন্ত্রী এস জয় শঙ্করকেও চিঠি পাঠায়।
আর এই সব প্রক্রিয়ার মাঝেই আরফাথের মৃত্যুর খবর সামনে এল।পরিবারের ধারণা তাঁকে খুনই করা হয়েছে। তবে কি কারণে ভারতীয় পড়ুয়ার ওপর এতোটা আক্রোশ এসে পড়ল সেটাই ভাবাচ্ছে আরফাথের মা-বাবা কে।

