নিজ দেহরক্ষিই করলো প্রাণ ! ইন্দিরা গান্ধী হত্যাকাণ্ডের রহস্যে রয়েছে অন্য আরেক ইতিহাস।

নিউজ বাংলা টুডে ডেস্ক,দেশ:-তিনি ছিলেন ভারতের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। তার সাহসিকতার কাছে মাথা নোয়াতেন অনেক বড় বড় দেশের নেতা-মন্ত্রীরা। তার বুদ্ধিদীপ্ত মানসিকতার কাছে হার মানতো বড়ো বড়ো কূটনৈতিক চাল। কিন্তু কে তিনি ? কি তাঁর মৃত্যু রহস্য? নিশ্চয়ই এতক্ষণে বুঝতে পারছেন কার কথা বলা হচ্ছে। কথা হচ্ছে ভারতের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে নিয়ে। গতকাল ছিল তাঁর মৃত্যুদিন। চিরঘুমের দেশে শায়িত হতে হয় তাঁকে। ৩৪ বছর আগের আজকের দিন থেকেই তিনি অস্তিত্বহীন হয়ে উঠেছিলেন ভারতবাসীর কাছে । যাদের হাতে দেওয়া হয়েছিল রক্ষার ভার , তারাই তাঁকে পাঠিয়ে দেন চিরঘুমের দেশে।
মৃত্যুর আগের দিন অবশ্য শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করেন তিনি কিন্তু সাধারণ দিনের মতোই বাড়ি ফিরে যান। এবং যথারীতি পরদিন কাজের জায়গায় উপস্থিত হন।পরদিন দুই ভবনের গেটের মাঝে ইন্দিরা গান্ধী দাঁড়িয়ে তখনও কথা বলছিলেন সচিব আর কে ধাওয়ারের সাথে। হঠাৎই উচ্চস্বরে চিৎকার শোনা যায়, “গুলি চালাও, গুলি চালাও “। সঙ্গে সঙ্গে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দেহরক্ষী বিয়ন্ত সিং এর রিভলভারের গুলি চলে যায় তার পেটে। বুকে ও কোমরের দিকে এগিয়ে আসে আরো দুটি গুলি। মাটিতে লুটিয়ে যেতে থাকেন ইন্দিরা গান্ধী। ঘটনাস্থল থেকে ঠিক পাঁচ ফুটের দূরত্বে থাকা সৎবন্ত সিং, যিনি ঘাবড়ে গিয়ে নিশ্চুপ হয়ে দেখছিলেন এতক্ষন – এবার তিনিও গুলিবর্ষণ শুরু করলেন। তাক করলেন ইন্দিরা গান্ধীর দিকে । ২৫ টা গুলির অবিরত সেই ভয়ংকর শব্দের সাথে সাথেই মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী । রক্তে ভেসে গেল চারিদিক। বাকি নিরাপত্তা কর্মীরা সকলেই তখন নিষ্ক্রিয়। অবাক দৃষ্টিতে যেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না কোন কিছুই ।গুলি থামেনি তখনও। একদম পিছনে থাকা নিরাপত্তা অফিসার এগিয়ে আসতে গেলে উরু আর পায়ে গুলির আঘাত খেতে হয় তাকেও। মাটিতে আছড়ে পড়েন তিনি। এরপর বাকিরা চিৎকার করে আস্তে আস্তে ঘিরে ফেলেন দুই দেহরক্ষীকেই । অবশ্য গুলি চললেও তখনো তার মৃত্যু হয়নি । তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে বোতলের পর বোতল রক্ত দিলেও সেদিন শেষ রক্ষা হয়নি। চিরতরে হারিয়ে যান কংগ্রেস নেত্রী তথা ভারতীয় প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।
১৯৮৪ সালের ৩০ শে অক্টোবর নির্বাচনে প্রচারে উড়িষ্যার ভুবনেশ্বরে শেষ ভাষণ দেন ইন্দিরা গান্ধী। মিডিয়া উপদেষ্টা এইচওআই সারদা প্রসাদের লেখা ভাষণ পড়ছিলেন তিনি। ঠিক যেমনটা তিনি করতেন আগাগোড়াই । কিন্তু হঠাৎই হয় স্বরবদল। লেখার বাইরে গিয়ে নিজেই বলতে শুরু করেন ইন্দিরা গান্ধী। বলেন – আজ আছেন ,কাল তিনি নাও থাকতে পারেন। তা নিয়ে একেবারেই চিন্তিত নন। তবে যতদিন থাকবেন দেশের জন্য কাজ করে তিনি গর্বিত। আর যেদিন চলে যাবেন তার মৃত্যুর পর রক্তের প্রতিটি ফোঁটা মজবুত করবে ভারতকে । অলিখিত সেই বক্তৃতার লাইনটি যেন আভাস দিয়ে গিয়েছিল ভবিষ্যতের। আসলেই সেদিন বর্তমানের কণ্ঠস্বর দিয়েছিল ভবিষ্যৎ শঙ্কার আভাস।
পরবর্তীতে জানা যায় এর আভাস গুপ্তচর মারফত মিসেস ইন্দিরা পূর্বেই পেয়েছিলেন। তবুও প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী নেত্রীর সেকুলার মনোভাব বাধা টানে আতঙ্কে । শিখ দেহ রক্ষীতে বিপদ আছে জেনেও ধর্মনিরপেক্ষ দেশের অধিকার কে আগে প্রাধান্য দেন তিনি। খালিস্তান স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠনের শিখ বিদ্রোহ দমনে ভারতীয় সেনাদের ইন্দিরা গান্ধী আক্রমণের নির্দেশ দিয়েছিলেন । যাতে ক্ষয়ক্ষতি হয় পবিত্র স্বর্ণ মন্দিরের বেশ কিছু অংশ। আরো ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিখ ধর্মীরা। সেই রাগ থেকেই পরবর্তীতে হত্যা হতে হয় তাকে । ভারতকে টুকরো হওয়া থেকে আটকাতে গিয়েই অবশেষে হিংসা প্রতিহিংসার জেরে ভয়ংকর মৃত্যুর সম্মুখীন হন তিনি।


